সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির কারণ কি? জেনে নিন বিস্তারিত

অনেক মা–বাবা এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা তাদের জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন মোটামুটি শান্ত থাকা শিশুটি হঠাৎ সন্ধ্যার পর অস্থির হয়ে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে। কোলে নিলেও শান্ত হয় না, দুধ খাওয়ালেও চুপ করে না। কখনো কখনো এই কান্না একটানা অনেকক্ষণ ধরে চলতে থাকে, যা বাবা–মায়েদের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির কারণ

বিশেষ করে নতুন বাবা–মায়েরা তখন ভেবে বসেন, হয়তো শিশুর কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের কান্নাকাটির পেছনে কিছু সাধারণ ও স্বাভাবিক কারণ থাকে। শিশুর পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি, গ্যাস বা দৈনন্দিন পরিবেশের প্রভাব থেকেও এমনটা হতে পারে।

এই ব্লগে আমরা সহজভাবে জানার চেষ্টা করব—সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির সম্ভাব্য কারণ কী, কোন লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা জরুরি এবং এমন পরিস্থিতিতে মা–বাবাদের কী করণীয়।

ডাক্তারের পরামর্শ নিন: ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬

শিশুর কান্না কেন স্বাভাবিক?

শিশুরা কথা বলতে পারে না। তাই তাদের চাহিদা, অস্বস্তি বা কষ্ট প্রকাশের একমাত্র উপায় হলো কান্না। ক্ষুধা লাগা, ঘুম পেতে থাকা, ডায়াপার ভেজা, পেটে অস্বস্তি—এসব কারণেই সাধারণত শিশু কান্না করে।

তবে যদি দেখা যায় যে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে কান্না করছে, তাহলে এর পেছনে কিছু বিশেষ কারণ থাকতে পারে।

সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির সম্ভাব্য কারণ

অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যায়, দিনের শেষ দিকে হঠাৎ অস্থিরতা বেড়ে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু হয়। এর পেছনে সাধারণত কিছু শারীরিক বা দৈনন্দিন কারণ কাজ করে, যেমন পেটে গ্যাস, ক্লান্তি বা অতিরিক্ত উত্তেজনা। তাই বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে সম্ভাব্য কারণগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি।

কোলিক (Colic) বা পেটের অস্বস্তি

শিশুর সন্ধ্যার কান্নাকাটির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো কোলিক। সাধারণত জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে অনেক শিশুর পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি তৈরি হয়। কোলিকের ক্ষেত্রে দেখা যায়—

  • শিশু হঠাৎ জোরে কান্না শুরু করে
  • পা ভাঁজ করে পেটের দিকে টেনে আনে
  • পেট শক্ত মনে হয়
  • সন্ধ্যা বা রাতের দিকে সমস্যা বেশি হয়

পেটে গ্যাস জমা

শিশু খাওয়ার সময় অনেক সময় বাতাস গিলে ফেলে। ফলে পেটে গ্যাস জমে অস্বস্তি তৈরি হয়। দিনভর ধীরে ধীরে গ্যাস জমতে থাকে এবং সন্ধ্যার দিকে তা বেশি অনুভূত হতে পারে। তখন শিশুটি অস্থির হয়ে পড়ে এবং কান্না শুরু করে।

অতিরিক্ত ক্লান্তি

শিশুরা যদি দিনে পর্যাপ্ত ঘুম না পায়, তাহলে সন্ধ্যার দিকে তারা খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্লান্তি বাড়লে অনেক সময় শিশুরা ঘুমাতে না পেরে বরং আরও বেশি কান্নাকাটি করে। এটাকে অনেক সময় ওভারটায়ার্ড বেবি বলা হয়।

অতিরিক্ত উত্তেজনা বা পরিবেশগত পরিবর্তন

দিনভর বাড়িতে অতিথি আসা, বেশি শব্দ, আলো বা নতুন পরিবেশ—এসব কারণে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে যেতে পারে। দিনের শেষে যখন শরীর বিশ্রাম চায়, তখন এই উত্তেজনার প্রভাব দেখা যায়। ফলে সন্ধ্যার দিকে শিশুটি অস্থির হয়ে পড়ে।

ক্ষুধা বা ফিডিং সমস্যা

কখনো কখনো শিশুর কান্নার কারণ খুব সাধারণ—সে হয়তো ক্ষুধার্ত। বিশেষ করে যদি শিশুটি পর্যাপ্ত দুধ না পায় বা ফিডিংয়ের সময় ঠিকভাবে খেতে না পারে, তাহলে সন্ধ্যার দিকে সে অস্থির হয়ে কান্না করতে পারে।

ডায়াপার বা শারীরিক অস্বস্তি

ভেজা ডায়াপার, গরম লাগা, ঠান্ডা লাগা বা পোশাকের অস্বস্তি থেকেও শিশু কান্না করতে পারে। সন্ধ্যার সময় অনেক সময় ডায়াপার দীর্ঘ সময় পরিবর্তন না করলে শিশুর অস্বস্তি বাড়ে।

কখন এই কান্না স্বাভাবিক ধরা হয়?

চিকিৎসকদের মতে, অনেক শিশুর ক্ষেত্রে একটি বিষয় দেখা যায় যাকে বলা হয় “Witching Hour”। এতে সাধারণত বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা শিশু বেশি কান্না করে। এটি সাধারণত জন্মের ২–৩ সপ্তাহ পর শুরু হয় এবং ৩–৪ মাস বয়সের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক এবং শিশুর বৃদ্ধির একটি ধাপ হিসেবে ধরা হয়।

শিশুর কান্না কমাতে কী করবেন?

শিশুর কান্না সব সময়ই কোনো না কোনো অস্বস্তি বা প্রয়োজনের ইঙ্গিত দেয়। তাই কান্না থামানোর আগে এর কারণ বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। কিছু সহজ যত্ন ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে অনেক সময় শিশুকে দ্রুত শান্ত করা যায়।

শিশুর কান্না কমাতে কী করবেন?
  1. খাওয়ানোর পর ঢেঁকুর তুলতে সাহায্য করুন: শিশুকে খাওয়ানোর পর কিছুক্ষণ কাঁধে তুলে রেখে ঢেঁকুর তুলতে সাহায্য করুন। এতে পেটের গ্যাস কমে।
  2. হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন: শিশুর পেটে খুব হালকা করে ম্যাসাজ করলে অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা কমে।
  3. কোলে নিয়ে হাঁটুন: অনেক সময় শিশুকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটলে সে শান্ত হয়ে যায়।
  4. শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন: বেশি শব্দ বা আলো কমিয়ে শিশুর জন্য শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।
  5. নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন: শিশুর নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করলে সন্ধ্যার অস্থিরতা অনেক কমে।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করুন
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড (শ্যামলী)
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
বিস্তারিত তথ্যের জন্য
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্ধ্যার কান্না স্বাভাবিক, তবুও কিছু লক্ষণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। যেমন—

একজন দক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন!

এ ধরনের সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করা এবং শিশুর জন্য নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ একজন অভিজ্ঞ শিশু ডাক্তার, যিনি শিশুদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শিশুর পেটের গ্যাস, কোলিক, হজমজনিত সমস্যা বা অস্বাভাবিক কান্নাকাটির মতো বিষয়গুলো তিনি গুরুত্ব সহকারে পরীক্ষা করে দেখেন এবং সুচিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

যদি আপনার শিশুর সন্ধ্যার কান্নাকাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হয় বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে দেরি না করে ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ এর সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শিশুর সুস্থতা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

এপয়েন্টমেন্ট বুক করুন

শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সন্ধ্যার দিকে কান্না কিছুটা বেশি দেখা যায়। দিনের ক্লান্তি, পেটে গ্যাস বা অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে এমনটা হতে পারে। তবে কান্না যদি খুব দীর্ঘ সময় ধরে চলে বা প্রতিদিনই একইভাবে হয়, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা জরুরি।

কোলিক হলে শিশুটি হঠাৎ জোরে কান্না শুরু করতে পারে এবং সহজে শান্ত হয় না। অনেক সময় সে পা পেটের দিকে টেনে আনে বা পেট শক্ত মনে হয়। সাধারণত বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

প্রথমে দেখুন শিশুর ক্ষুধা, ডায়াপার বা ঘুমের কোনো সমস্যা আছে কি না। খাওয়ানোর পর ঢেঁকুর তুলতে সাহায্য করা, কোলে নিয়ে ধীরে হাঁটা বা হালকা ম্যাসাজ অনেক সময় শিশুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশও শিশুকে স্বস্তি দেয়।

অনেক শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে এমন কান্না শুরু হয় এবং ৩–৪ মাস বয়সের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন একই সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

যদি শিশুর কান্নার সাথে জ্বর, বমি, খাওয়া কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া কান্না যদি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সতর্কতাঃ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Other pages you may be interested in...

শিশুদের রোটা ভাইরাস কী, এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা, টিকা এবং প্রতিরোধমূলক উপায় সম্পর্কে জানুন।

শিশুদের লিভারের রোগের লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. সালাউদ্দিন মাহমুদের পরামর্শ নিন।

Get safe and effective child constipation treatment in Bangladesh. We provide diet guidance, toilet training support, and effective medical care. Consult now!

Call Receptionist
Call for Appointment
Popular Diagnostic Centre Ltd. (Shyamoli)
CTA Phone Icon 09666-787806
For More Information
CTA Phone Icon 01339364083
Contact Us
Arrow