শিশুদের হাম সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর: অভিভাবকদের করণীয় ও সতর্কতা

বাংলাদেশে বর্তমানে হাম রোগের প্রকোপ আবারও বাড়তে শুরু করেছে, যা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গত কয়েক মাসে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪৪ থেকে ৫০ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে।

এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে হাম এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে যদি সময়মতো সচেতনতা, টিকাদান এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত না করা হয়। তাই হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো এমআর (MR) টিকা (৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে) দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শিশুদের হাম সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর

তাই সবার জন্য এখন প্রয়োজন সঠিক তথ্য জানা এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অভিভাবকের মনে হাম রোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে—কীভাবে ছড়ায়, কী লক্ষণ দেখা যায়, কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, বা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়। সঠিক তথ্য জানা থাকলে ভয় কমে, সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়।

আমরা শিশুদের হাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর সহজ ও নির্ভরযোগ্য উত্তর তুলে ধরেছি, যাতে অভিভাবকরা দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

ডাক্তারের পরামর্শ নিন: ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬

হাম কী ধরনের রোগ?

হাম রোগ রুবেওলা ভাইরাসের কারণে হওয়া একটি তীব্র সংক্রমণ। এটি খুব সহজে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে আশপাশের মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলির মধ্যে একটি।

বিশেষ করে যেসব শিশুর টিকা নেওয়া হয়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই রোগটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, যা হামকে অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ হিসেবে চিহ্নিত করে।

অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করুন
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড (শ্যামলী)
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
বিস্তারিত তথ্যের জন্য
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন

হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। এটি measles virus দ্বারা হয় এবং খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। শুরুতে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সময়মতো যত্ন না নিলে এটি জটিল আকার নিতে পারে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়ানো ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত ব্যক্তি কাছাকাছি থাকলে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। হাম মূলত হয় Measles virus দ্বারা সংক্রমণের কারণে। টিকা না নেওয়া, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা—এই কারণগুলো হাম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

হ্যাঁ, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগগুলোর একটি। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে একসাথে অনেক শিশু সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে স্কুল, ডে-কেয়ার বা ভিড়পূর্ণ জায়গায় এটি দ্রুত ছড়ায়। অনেক সময় লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

সব ক্ষেত্রে হাম গুরুতর হয় না, তবে এটি একেবারে হালকাও নয়। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্ট বা টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।

শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠে না। ফলে তারা সহজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া অনেক শিশুর টিকাদান অসম্পূর্ণ থাকে, যা ঝুঁকি আরও বাড়ায়। তাই এই বয়সে হাম বেশি দেখা যায়।

হামের শুরুটা অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো লাগে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দেখা যায়। এই কারণে অনেক অভিভাবক প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কয়েকদিন পর ফুসকুড়ি দেখা দিলে তখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

হামের প্রথম দিকে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা যায়, তাই অনেক সময় শুরুতে বুঝতে অসুবিধা হয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আছে যা একসাথে দেখা গেলে হাম সন্দেহ করা যায়। হামের প্রধান ৫টি লক্ষণ হলো:

  • উচ্চ জ্বর (১০৩–১০৫°F পর্যন্ত)
  • কাশি ও গলা ব্যথা
  • চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • ২–৪ দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠা, যা ৫–৭ দিন থাকতে পারে

সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার ৩–৫ দিনের মধ্যে ফুসকুড়ি দেখা যায়। প্রথমে ছোট ছোট লাল দানা মুখে বা কানের পেছনে হয়। এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় জ্বরও বেশি থাকতে পারে।

জ্বর সাধারণত ৫–৭ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। প্রথম দিকে কম থাকলেও ফুসকুড়ি ওঠার সময় এটি বেশি হয়। ধীরে ধীরে ফুসকুড়ি কমার সাথে সাথে জ্বরও কমে আসে।

হ্যাঁ, এটি হাম-এর একটি সাধারণ লক্ষণ। অনেক সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়। শিশুর চোখ সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

হাম ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। সঠিক যত্ন, বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবারেই বেশিরভাগ শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে।

সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি ভাইরাসজনিত রোগ। তবে যদি নিউমোনিয়া বা অন্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ যুক্ত হয়, তখন ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো সম্পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সচেতনতা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাও জরুরি। এই তিনটি বিষয় ঠিক থাকলে হাম অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভিটামিন A শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি চোখের সুরক্ষা দেয় এবং জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

হালকা ক্ষেত্রে বাসায় যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে শিশুর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

যদি শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, খিঁচুনি হয় বা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এসব লক্ষণ জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।

শিশুকে বিশ্রামে রাখুন এবং পর্যাপ্ত পানি দিন। জ্বর নিয়মিত দেখুন এবং প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে শিশুকে আলাদা রাখা জরুরি।

হ্যাঁ, হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখলে সংক্রমণ কমে। অন্তত কয়েকদিন আলাদা রাখা ভালো।

গোসল করানো যাবে, তবে খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা ঠিক না। শিশুকে পরিষ্কার রাখা দরকার, কিন্তু তাকে আরামদায়ক রাখতে হবে।

তরল ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া ভালো। যেমন স্যুপ, খিচুড়ি, ফলের রস ইত্যাদি। এতে শরীরের শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করে।

সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাইরে নেওয়া উচিত না। এতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

হাম হলে সাধারণত লাল ফুসকুড়ি দেখা যায় যা কিছু ক্ষেত্রে চুলকানি তৈরি করতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে চুলকানি হয় না। ত্বক শুষ্ক হলে চুলকানি বাড়তে পারে, তাই পরিষ্কার ও আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি।

হাম হলে নির্দিষ্ট কোনো খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হয় না। তবে অতিরিক্ত তেলযুক্ত, মশলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার এড়ানো ভালো। সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, ডাল, স্যুপ ও ফল খাওয়া বেশি উপকারী।

শিশুর হাম হলে তাকে আলাদা রাখতে হবে, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে এবং চোখ ও ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

হাম হলে শিশুকে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। যেমন খিচুড়ি, স্যুপ, ফলের রস, দুধ ইত্যাদি। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে।

ছোট বাচ্চাদের হাম হলে বিশ্রাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১ মাসের শিশুর হাম হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। এ সময় শিশুকে আলাদা রাখা, বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া এবং পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করা খুব জরুরি।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো, পরিষ্কার পরিবেশ রাখা এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

সাধারণত হাম ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়। তবে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে। সঠিক যত্ন নিলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব।

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এন্টিবায়োটিক সরাসরি কাজ করে না। তবে কোনো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে চিকিৎসক এন্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

হাম প্রতিরোধে সময়মতো টিকা নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো উচিত।

হাম জ্বর বলতে হাম রোগের কারণে হওয়া জ্বরকে বোঝায়। এটি সাধারণত ৩-৫ দিন থাকে এবং পরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

হামের টিকা নেওয়ার ফলে রোগ ছড়ায় না। বরং এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

হাম দ্রুত ভালো করার জন্য বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।

হামের টিকা অত্যন্ত নিরাপদ এবং কার্যকর। কিছু ক্ষেত্রে হালকা জ্বর বা ব্যথা হতে পারে, তবে তা সাময়িক এবং গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল।

হামের সংস্পর্শে এলে সাধারণত ১০-১৪ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। এ সময় অন্যদের থেকে দূরে থাকা সংক্রমণ ছড়ানো রোধে সাহায্য করে।

হাম থেকে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে টিকা নেওয়া, পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার পরিবেশ এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে অন্তত ৩৮ থেকে ৪৪ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা পরিস্থিতি ও রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে, তাই নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করা জরুরি।

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এটি খুব দ্রুত ছড়াতে পারে, তাই সতর্কতা জরুরি।

হাম প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রমাণিত উপায়। সময়মতো দুই ডোজ MMR টিকা নিলে প্রায় ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়, যা একটি বড় নিরাপত্তা দেয়। টিকা নেওয়া থাকলে রোগ হলেও তা সাধারণত হালকা থাকে এবং জটিলতার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তাই প্রতিটি শিশুর পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

হ্যাঁ, MMR টিকা বিশ্বজুড়ে নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে স্বীকৃত। বহু বছর ধরে এটি নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ শিশুকে সুরক্ষা দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে হালকা জ্বর বা অল্প অস্বস্তি হতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং অল্প সময়েই ঠিক হয়ে যায়। তাই ভয় না পেয়ে সময়মতো টিকা নেওয়াই ভালো সিদ্ধান্ত।

সাধারণত দুই ডোজ হাম টিকা দেওয়া হয়—প্রথমটি ৯ থেকে ১২ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বা পরে। এই দুই ডোজ সম্পূর্ণ না হলে শরীরে পূর্ণ সুরক্ষা তৈরি হয় না। তাই অনেক সময় দেখা যায় প্রথম ডোজ নেওয়া হলেও দ্বিতীয় ডোজ মিস করার কারণে ঝুঁকি থেকে যায়। সম্পূর্ণ টিকাদানই নিরাপদ পথ।

খুব কম ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও হাম হতে পারে, তবে তা সাধারণত হালকা থাকে। টিকা নেওয়া থাকলে শরীর আগে থেকেই কিছু প্রতিরোধ তৈরি করে রাখে, ফলে রোগের তীব্রতা কম হয়। গুরুতর জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। তাই টিকা নেওয়ার গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে না।

টিকা না নিলে শিশুর শরীরে কোনো প্রতিরোধ তৈরি হয় না, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। আক্রান্ত হলে রোগটি গুরুতর হতে পারে এবং জটিলতার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভিড়পূর্ণ পরিবেশে থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই টিকা না নেওয়া একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়।

যখন স্বাভাবিকের তুলনায় একসাথে অনেক শিশু হাম আক্রান্ত হয়, তখন সেটিকে আউটব্রেক বলা হয়। এটি সাধারণত তখন ঘটে, যখন একটি এলাকায় অনেক শিশু টিকা নেয়নি বা অসম্পূর্ণ টিকাদান রয়েছে। তখন ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।

শহরে মানুষের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। একই স্কুল, বাসা বা পরিবেশে অনেক শিশু একসাথে থাকায় ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ভিড়পূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থাও সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

হাম খুব দ্রুত ছড়ায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১৫–১৮ জন পর্যন্ত অন্য শিশু আক্রান্ত হতে পারে। তাই এটি একবার শুরু হলে দ্রুত বড় আকার নিতে পারে।

হ্যাঁ, একই পরিবারের অন্য শিশুরা খুব সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে যদি তারা টিকা না নিয়ে থাকে বা অসম্পূর্ণ টিকা নেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা জরুরি।

হ্যাঁ, একই ঘরে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কারণ ভাইরাস বাতাসে ছড়ায় এবং সহজেই অন্যদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই আলাদা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অল্প অল্প করে বারবার পানি বা তরল খাবার দিতে হবে। এতে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং দুর্বলতা কমে। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সহজপাচ্য ও হালকা খাবার দেওয়া উচিত, যেমন খিচুড়ি, স্যুপ বা ফলের রস। ভারী বা মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এতে শিশুর হজম সহজ হয় এবং দ্রুত সুস্থ হয়।

চিকিৎসক রোগের অবস্থা মূল্যায়ন করেন, জটিলতা আছে কি না দেখেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সঠিক নির্দেশনা দেন।

হ্যাঁ, হাত ধোয়া সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। যদিও এটি বাতাসে ছড়ায়, তবুও স্বাস্থ্যবিধি মানলে ঝুঁকি কমে।

কমপক্ষে ৪ দিন আলাদা রাখা উচিত, বিশেষ করে ফুসকুড়ি ওঠার পর। এতে সংক্রমণ ছড়ানো কমে যায়।

শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলে এবং জ্বর না থাকলে স্কুলে যাওয়া নিরাপদ। তার আগে পাঠানো ঠিক না।

সাধারণত একজন শিশু একবার হাম হলে তার শরীরে সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। ফলে আবার একই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। তবে যদি শিশুর ইমিউনিটি খুব দুর্বল হয়, তখন ব্যতিক্রম হতে পারে। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একবারই এই রোগ হয়।

গর্ভাবস্থায় হাম হলে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে গর্ভপাত, প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি বা শিশুর দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।

একই ঘরে থাকা, একই জিনিস ব্যবহার করা এবং কাছাকাছি থাকা—এসব কারণে ভাইবোনের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে যদি অন্য শিশুটি টিকা না নিয়ে থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরও বেশি হয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা জরুরি।

হাম হলে শিশুর খাওয়ার আগ্রহ কমে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। জ্বর, কাশি ও অস্বস্তির কারণে খাবার ঠিকমতো খেতে পারে না। ফলে শরীরের ওজন কমে যেতে পারে এবং সুস্থ হতে কিছু সময় লাগে।

ডায়রিয়া হলে শিশুকে বেশি করে পানি ও তরল খাবার দিতে হবে। এতে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন দেওয়া যেতে পারে এবং অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হাম ভাইরাসের কারণে শরীরে সংক্রমণ থাকলে জ্বর কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। ফুসকুড়ি ওঠার সময় জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে জ্বর অনেকদিন না কমলে বা খুব বেশি হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

হ্যাঁ, শিশুকে দুধ খাওয়ানো যাবে এবং এটি উপকারীও। এতে শরীরের শক্তি বজায় থাকে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডাক্তারগণ সাধারণত প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী দেখে থাকেন। সেক্ষেত্রে এই সময় টাতে দুই-একজন হাম আক্রান্ত রোগী থাকতে পারে। হাম রোগী দেখার সময় চিকিৎসকের উচিত মাস্ক ব্যবহার করা, প্রতিটি রোগী দেখার পর হাত ধোয়া এবং রোগীকে আলাদা রাখা। এতে সংক্রমণ ছড়ানো কমে এবং চিকিৎসক নিজেও সুরক্ষিত থাকেন।

হ্যাঁ, ফল খাওয়ানো ভালো, বিশেষ করে ভিটামিনসমৃদ্ধ ফল। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে সহজপাচ্য ফল দেওয়া ভালো।

না, সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাইরে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং শিশুর অবস্থাও খারাপ হতে পারে।

অবশ্যই জরুরি, কারণ এটি খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখলে অন্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

হ্যাঁ, অসুস্থতার কারণে শিশুর খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। তাই জোর না করে অল্প অল্প করে খাবার দেওয়া ভালো।

না, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা ভালো। এতে শিশুর অস্বস্তি বাড়তে পারে।

হ্যাঁ — বেসরকারিভাবে হামের টিকা (Measles vaccine) দেওয়া যায় ।

  • প্রাইভেট হাসপাতাল (যেমন: Square, Popular, Labaid)
  • শিশু বিশেষজ্ঞ (Pediatrician) চেম্বার
  • ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেগুলো ভ্যাকসিন দেয়
  • কিছু ফার্মেসি-সংযুক্ত ভ্যাকসিন ক্লিনিক।

তবে টিকা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দিন এবং শিশুর জ্বর বা অসুস্থতা থাকলে আগে জানাতে হবে

প্রতি ডোজ: আনুমানিক ৮০০–২৫০০ টাকা (হাসপাতাল/ব্র্যান্ড অনুযায়ী ভিন্ন)

না — হাম (Measles) হলে তখন টিকা দেওয়া হয় না।

সতর্কতাঃ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Other pages you may be interested in...

শিশুদের লিভারের রোগের লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. সালাউদ্দিন মাহমুদের পরামর্শ নিন।

শিশুদের রোটা ভাইরাস কী, এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা, টিকা এবং প্রতিরোধমূলক উপায় সম্পর্কে জানুন।

সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নার কারণ, লক্ষণ ও করণীয় সম্পর্কে সহজভাবে জানুন।

Call Receptionist
Call for Appointment
Popular Diagnostic Centre Ltd. (Shyamoli)
CTA Phone Icon 09666-787806
For More Information
CTA Phone Icon 01339364083
Contact Us
Arrow