শিশুর ওজন না বাড়ার কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার

শিশুর ওজন ঠিকভাবে না বাড়া অনেক মা-বাবার জন্য নীরব এক দুশ্চিন্তা। বাইরে থেকে শিশুকে সুস্থই মনে হয়, খেলাধুলা করে, হাসে—তবু ওজনের পাল্লায় সে পিছিয়ে থাকে। তখন প্রশ্ন আসে, আমার শিশুর কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?

শিশুর ওজন না বাড়ার কারণ এবং প্রতিকার

আসলে শিশুর ওজন না বাড়া সব সময় রোগের লক্ষণ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের কোনো ঘাটতি বা সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই বিষয়টি বোঝা, পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ–এর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শিশুর ওজন না বাড়া সব সময় রোগের লক্ষণ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরের কোনো ঘাটতি, ভুল খাদ্যাভ্যাস বা দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় জানবো—শিশুর ওজন না বাড়ার কারণ কী, কোন লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা দরকার, আর কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

ডাক্তারের পরামর্শ নিন ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬

শিশুর ওজন না বাড়ার সাধারণ কারণ সমূহ

শিশুর ওজন কম থাকার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সব কারণই যে গুরুতর হবে, তা নয়। তবে কারণগুলো জানা থাকলে সঠিক সময়ে শিশুর চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।

খাবারজনিত কারণ

অনেক শিশুই বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি পায় না। ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যার মূল থাকে শিশুর খাদ্যতালিকায়। খাবার থাকলেও যদি তা পুষ্টিগুণে দুর্বল হয়, তাহলে ওজন বাড়ে না।

  • শিশুকে পরিমাণে কম খাওয়ানো
  • খাবারে বৈচিত্র্যের অভাব
  • দীর্ঘদিন শুধু ভাত বা তরল খাবারের উপর নির্ভরতা
  • জোর করে খাওয়ানোয় খাবারের প্রতি অনীহা

হজম ও শোষণজনিত সমস্যা

খাবার খেলেও যদি শরীর তা ঠিকমতো গ্রহণ করতে না পারে, ওজন বাড়বে না। বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে বেশ প্রচলিত সমস্যাগুলো হলো:

ঘন ঘন অসুস্থতা

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুটি ঠিকমতো খাচ্ছে, তবুও ওজন বাড়ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো বারবার অসুস্থ হওয়া। ঘন ঘন সর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণে শিশুর শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও বিকাশের কাজে ব্যবহৃত না হয়ে রোগের সাথে লড়াই করতেই বেশি ব্যয় হয়। ফলে খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি শরীরে জমা হওয়ার সুযোগ পায় না।

বিশেষ করে নিউমোনিয়া বা দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের পর অনেক শিশুর ওজন কিছু সময়ের জন্য স্থির হয়ে যায় বা কমেও যেতে পারে। এ অবস্থায় শুধু খাবার বাড়ানো নয়, সংক্রমণের মূল কারণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মগত ও শারীরিক কারণ

কিছু শিশু জন্মের সময় থেকেই কম ওজন নিয়ে জন্মায় বা সময়ের আগে জন্মায়। এসব ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ধীরে হয়, ফলে ওজন বাড়তেও সময় লাগে। নিয়মিত গ্রোথ চার্ট পর্যবেক্ষণই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওজন বাড়ার গতি ধীর হতে পারে এমন কিছু কারণ হলো:

  • কম ওজন নিয়ে জন্ম
  • প্রিম্যাচিউর বেবি
  • জন্মগত কোনো সমস্যা
  • দীর্ঘমেয়াদি রোগ

পরিবেশ ও অভ্যাসগত কারণ

শিশুর চারপাশের পরিবেশ ও দৈনন্দিন অভ্যাসও ওজন বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, খাওয়ার সময় মনোযোগের অভাব, অতিরিক্ত স্ক্রিনে অভ্যস্ততা বা পারিবারিক মানসিক চাপের কারণে শিশুর ক্ষুধা কমে যেতে পারে। ফলে খাবার ঠিকমতো খেলেও ওজন বাড়ার গতি ধীর হয়ে যায়।

  • পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
  • অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিনে অভ্যস্ততা
  • খাওয়ার সময় অমনোযোগ
  • পারিবারিক মানসিক চাপ

শিশুর ওজন না বাড়ার প্রধান লক্ষণ সমূহ

সব শিশু আলাদা। তাই শুধু চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কিছু লক্ষণ একসাথে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

শিশুর ওজন না বাড়ার প্রধান লক্ষণ সমূহ

শারীরিক লক্ষণ

শিশুর ওজন না বাড়লে কিছু শারীরিক পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। বয়স অনুযায়ী ওজন কম থাকা, হাত-পা তুলনামূলক চিকন হওয়া, পাঁজর স্পষ্ট দেখা যাওয়া বা শরীরের মাংসপেশি কমে যাওয়া—এসবই ওজন ঘাটতির সাধারণ শারীরিক লক্ষণ।

  • বয়স অনুযায়ী ওজন কম
  • হাত-পা তুলনামূলক চিকন
  • পাঁজর স্পষ্ট দেখা যায়
  • উচ্চতা বাড়লেও ওজন বাড়ে না

আচরণগত লক্ষণ

ওজন ঠিকভাবে না বাড়লে শিশুর আচরণেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া, খাওয়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, খেলাধুলায় অনীহা বা আগের তুলনায় বেশি অসুস্থ হওয়া। এসব পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

  • সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে
  • খেতে আগ্রহ কম
  • খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যাওয়া
  • বারবার অসুস্থ হওয়া

গ্রোথ চার্টে সংকেত

শিশুর ওজন ও উচ্চতা নিয়মিত গ্রোথ চার্টে নথিভুক্ত করলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ধরা পড়ে। যদি দেখা যায় শিশুর ওজন দীর্ঘদিন একই রেখার নিচে অবস্থান করছে বা হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, তাহলে তা স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তন হলে অবহেলা না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোন বয়সে শিশুর ওজন না বাড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

শিশুর প্রতিটি বয়সে বেড়ে ওঠার গতি আলাদা হলেও কিছু বয়সে ওজন না বাড়া বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে জন্মের প্রথম দুই বছরে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত হয়। এই সময়ে ওজন নিয়মিত না বাড়লে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী পরিবর্তনগুলো সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

০–৬ মাস

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে ওজন ঠিকভাবে না বাড়লে সবার আগে মায়ের দুধ যথেষ্ট হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। দুধ খাওয়ার সংখ্যা, ধরন ও শিশুর চোষার ক্ষমতা ঠিক না হলে ওজন বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়তে পারে।

৬ মাস–২ বছর

ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সে শিশুর অপুষ্টির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে শুধু খাবার শুরু করলেই যথেষ্ট নয়, বরং খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করাই মূল বিষয়। প্রয়োজনীয় প্রোটিন, চর্বি ও ভিটামিনের ঘাটতি হলে শিশুর ওজন ও সামগ্রিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

২–৫ বছর

দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি শেখা ও আচরণগত বিকাশও দ্রুত ঘটে। এই সময়ে দীর্ঘদিন ওজন না বাড়লে শিশুর শক্তি কমে যেতে পারে, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হতে পারে। তাই এ বয়সে ওজনের পরিবর্তন নিয়মিত নজরে রাখা জরুরি।

শিশুর ওজন না বাড়লে ঘরে বসে কী করবেন?

শিশুর ওজন না বাড়া মানেই ব্যর্থতা নয়। প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার গতি আলাদা। তুলনা নয়, প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ। অযথা ভয় নয়, আবার অবহেলাও নয়—এই দুইয়ের মাঝখানেই সচেতন অভিভাবকত্ব। সব ক্ষেত্রে ওষুধই সমাধান নয়। অনেক সময় ছোট ছোট পরিবর্তনেই ভালো ফল আসে।

খাবার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন

শিশুর ওজন বাড়াতে খাবার ব্যবস্থাপনায় ছোট কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দেওয়া, ভাতের সাথে ডাল, ডিম ও সবজি যুক্ত করা এবং বয়স অনুযায়ী প্রোটিন ও চর্বির পরিমাণ নিশ্চিত করা এতে সহায়ক হয়।

শিশুর ওজন না বাড়লে ঘরে বসে কী করবেন
  • দিনে ৫–৬ বার অল্প অল্প করে খাবার
  • ভাতের সাথে ডাল, ডিম, সবজি যোগ করা
  • তেলে ভাজা নয়, পুষ্টিকর খাবার
  • বয়স অনুযায়ী প্রোটিন ও ফ্যাট নিশ্চিত করা

খাওয়ানোর অভ্যাস

শিশুকে কী খাওয়ানো হচ্ছে, তার পাশাপাশি কীভাবে খাওয়ানো হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জোর না করে ধৈর্য ধরে খাওয়ানো, নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার দেওয়া এবং খাওয়ার সময় মোবাইল বা টিভির মতো বিভ্রান্তি এড়িয়ে চললে শিশুর খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে।

  • জোর না করে ধৈর্য ধরে খাওয়ানো
  • নির্দিষ্ট সময়ে খাবার
  • টিভি বা মোবাইল বন্ধ রেখে খাওয়ানো
  • পরিবারের সাথে বসে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা
  • নতুন খাবার ধীরে ধীরে পরিচয় করানো

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ

সংক্রমণ বারবার হলে শিশুর ওজন বাড়া বাধাগ্রস্ত হয়, তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

  • বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার
  • নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস
  • সময়মতো কৃমিনাশক (ডাক্তারের পরামর্শে)
  • পরিষ্কার পাত্রে খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশন
  • টিকাদান সময়সূচি ঠিকভাবে অনুসরণ করা

কখন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন?

শিশুর ওজন দীর্ঘদিন না বাড়লে, খাওয়া কমে গেলে, বারবার অসুস্থ হলে বা গ্রোথ চার্টে ওজন কমতে থাকলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • ২–৩ মাসে ওজন একদম না বাড়লে
  • শিশুর বমি বা ডায়রিয়া সহজে ভালো না হলে
  • শিশুর ঘন ঘন জ্বর হলে
  • শিশুর খাওয়া কমে গেলে
  • গ্রোথ চার্টে হঠাৎ নিচের দিকে নামলে
  • শিশুকে আগের তুলনায় বেশি দুর্বল বা ক্লান্ত দেখালে
  • শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে অভিভাবকের মনে সন্দেহ তৈরি হলে

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এর পরামর্শ নিন

ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত শিশু বিশেষজ্ঞ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের বৃদ্ধি, пুষ্টি ও সাধারণ রোগের চিকিৎসায় কাজ করে আসছেন। শিশুর ওজন না বাড়া, শিশু পুষ্টিজনিত সমস্যা, বারবার অসুস্থতা কিংবা খাওয়ার সমস্যার মতো বিষয়গুলো তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এর পরামর্শ

তাঁর পরামর্শের মূল লক্ষ্য হলো—অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা ওষুধ নয়, বরং সঠিক কারণ নির্ণয় করে শিশুর স্বাভাবিক ও নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা।

  • শিশুর ওজন ও গ্রোথ চার্ট অনুযায়ী ব্যক্তিগত মূল্যায়ন
  • অপুষ্টি ও ওজন না বাড়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা
  • বয়সভিত্তিক খাবার ও খাওয়ানোর বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা
  • অপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়িয়ে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি
  • অভিভাবকদের জন্য সহজ ও বাস্তব পরামর্শ
এপয়েন্টমেন্ট বুক করুন
অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করুন
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড (শ্যামলী)
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
বিস্তারিত তথ্যের জন্য
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন

শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব

শিশুর ওজন শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এটি তার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সময়মতো কারণ খুঁজে বের করা গেলে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বেশিরভাগ শিশুই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পথে ফিরে আসে।

আপনার শিশুর ওজন নিয়ে যদি মনে প্রশ্ন থাকে, অনুমানের উপর ভরসা না করে একজন অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই আপনার শিশুকে দিতে পারে সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ।

পরামর্শের জন্য কল করুন ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬

শিশুর ওজন বৃদ্ধি নিয়ে সচরাচর প্রশ্নোত্তর

বাচ্চার ওজন না বাড়ার সাধারণ কারণ হলো পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া, বারবার অসুস্থ হওয়া, হজমের সমস্যা বা জন্মগত কিছু কারণ। অনেক সময় খাওয়ার পরিমাণ ঠিক থাকলেও শরীর খাবারের পুষ্টি ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারে না।

কিছু বাচ্চা বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি পায় না। আবার কারও বৃদ্ধি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রোথ চার্ট অনুযায়ী মূল্যায়ন করা জরুরি।

মোটা নয়, সুস্থভাবে ওজন বাড়ানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভাত, ডাল, ডিম, সবজি, দুধ, ফল ও বয়স অনুযায়ী প্রোটিনযুক্ত খাবার নিয়মিত দিলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে।

বাচ্চার স্বাভাবিক ওজন বয়স ও উচ্চতার ওপর নির্ভর করে। তাই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নয়, গ্রোথ চার্ট অনুযায়ী ওজন স্বাভাবিক আছে কি না সেটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

জন্মের প্রথম ছয় মাসে মায়ের বুকের দুধই শিশুর জন্য সবচেয়ে পরিপূর্ণ খাবার। পর্যাপ্ত বুকের দুধ পেলে বেশিরভাগ শিশুর ওজন স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।

গর্ভাবস্থায় মায়ের সুষম খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভাত, ডাল, শাকসবজি, ফল, ডিম, দুধ ও পর্যাপ্ত পানি খেলে গর্ভের শিশুর ওজন স্বাভাবিকভাবে বাড়তে সাহায্য করে।

বাচ্চার ওজন ডিজিটাল বা সাধারণ স্কেল দিয়ে মাপা যায়। নিয়মিত একই সময় ও একই স্কেলে ওজন মেপে গ্রোথ চার্টে নথিভুক্ত করলে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।

দ্রুত মোটা করার কোনো নিরাপদ উপায় নেই। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, সঠিক খাওয়ানোর অভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও অসুস্থতা নিয়ন্ত্রণই ধীরে ও নিরাপদভাবে ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

Call Receptionist
Call for Appointment
Popular Diagnostic Centre Ltd. (Shyamoli)
CTA Phone Icon 09666-787806
For More Information
CTA Phone Icon 01339364083
Make An Appoinment
Arrow