শিশুর আমাশয় হলে করণীয়: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

শিশুর হঠাৎ পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা আর দুর্বলতা দেখা দিলে অনেক বাবা-মা স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেয়ে যান। মনে হয়, “বাচ্চার এমন হচ্ছে কেন?”, “এটা কি ডায়রিয়া নাকি আমাশয়?”এ সময় দেরি করলে শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, জ্বর আসতে পারে, এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে ৩ মাস, ৫ মাস বা ৯ মাসের ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আমাশয় দ্রুত বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে, কারণ তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও গড়ে ওঠেনি। তাই লক্ষণগুলো ঠিকমতো জেনে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নেওয়াই শিশুকে জটিলতা থেকে বাঁচাতে পারে।

শিশুর আমাশয় হলে করণীয়

এই লেখায় আপনি জানবেন:

  • শিশুর আমাশয় হলে করণীয়
  • বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত বা খাওয়া উচিত নয়, এবং
  • বাচ্চাদের আমাশয় রোগের ঘরোয়া যত্নের নিরাপদ উপায়।
ডাক্তারের পরামর্শ নিন

আমাশয় কী

আমাশয় বা ডায়াসেন্ট্রি (Dysentery) হলো এক ধরনের অন্ত্রের সংক্রমণ, যেখানে শিশুর পায়খানা বারবার হয় এবং অনেক সময় রক্ত বা মিউকাস (শ্লেষ্মা) মিশে থাকে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া (যেমন শিগেলা) বা পরজীবী (যেমন আমিবা) সংক্রমণের কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।

এই সংক্রমণ শিশুর বৃহদান্ত্রে প্রদাহ (inflammation) সৃষ্টি করে, যার ফলে পেট ব্যথা, জ্বর, এবং ডিহাইড্রেশনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের আমাশয় হলে এটি খুব দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। কারণ তাদের শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য বড়দের তুলনায় অনেক দ্রুত নষ্ট হয়।

শিশুর প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল থাকলে বা খাবার ও পানি দূষিত হলে, আমাশয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই শিশুর আমাশয় শুধু একটি সাধারণ পেটের সমস্যা নয়, এটি সময়মতো যত্ন না নিলে বিপজ্জনকও হতে পারে।

শিশুর আমাশয়ের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন?

শিশুর আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন দেখে অনেক সময়ই বোঝা যায় যে তার অন্ত্রে কোনো সংক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু আমাশয় (Dysentery) হলে লক্ষণগুলো সাধারণ পেটের সমস্যার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র হয়।

আমাশয়ের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ ডায়রিয়ার মতো মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুর অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে। তাই প্রথম থেকেই শিশুর পরিবর্তনগুলো গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য করা জরুরি।

শিশুর আমাশয়ের লক্ষণ

নিচের উপসর্গগুলো দেখা গেলে আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার শিশুর হয়তো আমাশয় হয়েছে:

  • বারবার পাতলা পায়খানা, অনেক সময় রক্ত বা মিউকাস (শ্লেষ্মা) মিশে থাকা
  • হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, কখনও কাঁপুনি সহ
  • পেট ব্যথা, বিশেষ করে পায়খানার আগে বা সময়
  • খেতে অনীহা বা বুকের দুধ না খাওয়া
  • শিশুর দুর্বলতা, চোখ ঢেবে যাওয়া বা কান্নায় চোখের পানি না থাকা
  • বড় বাচ্চারা পেট ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার কথা জানাতে পারে

এছাড়াও শিশুর শরীরে পানির ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন) দেখা দিলে ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এটি আমাশয়ের অন্যতম জটিলতা এবং তাৎক্ষণিক যত্নের প্রয়োজন হয়।

যদি এসব উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে সঠিকভাবে বাচ্চাদের আমাশয় হলে করণীয় বিষয়গুলো অনুসরণ করুন এবং দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

শিশুর আমাশয় হলে করণীয় কী?

শিশুর আমাশয় হলে অনেক অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু ভয় নয়, সচেতনতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং সঠিক চিকিৎসাই শিশুকে সুস্থ করে তোলার মূল চাবিকাঠি। আমাশয় হলে শিশুর শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা ছোট বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া যত্ন নেওয়াও খুব জরুরি।

নিচে ধাপে ধাপে শিশুর আমাশয় হলে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও ওআরএস দিন

বারবার পাতলা পায়খানার ফলে শরীরে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণে শিশুকে ওআরএস (ORS) খাওয়ান।

  • বুকের দুধ খায় এমন শিশুদের বারবার দুধ দিন।
  • বড় বাচ্চাদের সেদ্ধ ঠান্ডা পানি, ওআরএস, স্যুপ বা ভাতের মাড় দিন।

হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিন

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত, এটি অনেক মায়ের সাধারণ প্রশ্ন। এই সময় ভারী, চর্বিযুক্ত বা মশলাদার খাবার দেওয়া একেবারেই উচিত নয়।

  • সেদ্ধ ভাত, খিচুড়ি, আলু, কলা, ডাবের পানি দিন।
  • দুগ্ধজাত খাবার ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না

আমাশয় বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কখনও ব্যাকটেরিয়া, কখনও ভাইরাস, আবার কখনও পরজীবী সংক্রমণ (যেমন আমিবা) থেকেও এই সমস্যা দেখা দেয়। সব ধরনের আমাশয়ের জন্য এক ধরনের ওষুধ কার্যকর নয়।

অনেকে শিশুর পাতলা পায়খানা বা পেট ব্যথা দেখলেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া শুরু করেন, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল ওষুধ ব্যবহারে শিশুর অন্ত্রের প্রাকৃতিক জীবাণু নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পেটের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

তাই কখনোই নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ডাক্তার শিশুর বয়স, ওজন, উপসর্গ এবং রিপোর্ট দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসা নির্ধারণ করেন। এতে শিশুর সুস্থ হতে সময় কম লাগে এবং ভবিষ্যতে জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ঘরোয়া যত্নে শিশুকে আরাম দিন

বাচ্চাদের আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে:

  • শিশুর শরীর পরিষ্কার রাখুন।
  • গরম কাপড়ে পেট হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন।
  • ঘরে বাতাস চলাচল রাখুন এবং শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন।
ডাক্তারের পরামর্শ নিন ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত ও কি খাওয়া উচিত নয়?

আমাশয়ের সময় শিশুর খাবার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং অন্ত্রে সংক্রমণের কারণে অনেক খাবার সহজে হজম হয় না। সঠিক খাবার শিশুর শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে, আর ভুল খাবার অবস্থা আরও খারাপ করে দিতে পারে।

চলুন জেনে নেই বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত এবং কি খাওয়া উচিত নয়:

আমাশয়ের সময় শিশুকে যা খাওয়ানো উচিত

শিশুর পেটের প্রতি কোমল এবং সহজপাচ্য খাবার দিন। এতে হজমে সমস্যা হবে না এবং শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে। নিচের খাবারগুলো দেওয়া নিরাপদ:

  • সেদ্ধ ভাত বা নরম খিচুড়ি
  • সেদ্ধ আলু (হালকা লবণ মিশিয়ে)
  • পাকা কলা: শক্তি বাড়ায় ও পাতলা পায়খানা কমাতে সাহায্য করে
  • ভাতের মাড় বা ডাবের পানি: শরীরে পানি ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করে
  • হালকা স্যুপ বা ঝোল জাতীয় খাবার (তেল-মশলা ছাড়া)
  • বুকের দুধ: নবজাতক বা ছোট বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্পূর্ণ খাদ্য

যা একেবারেই খাওয়ানো উচিত নয়

আমাশয়ের সময় শিশুর পেট খুব সংবেদনশীল থাকে। তাই নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন:

  • দুধ বা দুধজাত খাবার (যদি শিশু শুধুমাত্র বুকের দুধে না থাকে)
  • ভাজাপোড়া বা তৈলাক্ত খাবার
  • মশলাদার, টক বা ঝাল খাবার
  • সফট ড্রিংকস, চকলেট, মিষ্টিজাতীয় খাবার
  • কাঁচা ফলমূল বা বাজারের অস্বাস্থ্যকর খাবার

পুষ্টি ধরে রাখার টিপস

  • দিনে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ান, জোর করবেন না।
  • খাবার ও পানীয় সবসময় সেদ্ধ বা ফুটানো রাখুন।
  • শিশুর পেট ভালো হতে শুরু করলে ধীরে ধীরে আগের নিয়মের খাবারে ফিরিয়ে আনুন।

বাচ্চাদের আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

শিশুর আমাশয় হলে ঘরোয়া যত্ন তার আরাম ও সুস্থতার পথে সহায়ক হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এসব উপায় চিকিৎসকের বিকল্প নয়।

নিচে কিছু নিরাপদ ও কার্যকর ঘরোয়া চিকিৎসা তুলে ধরা হলো:

  • ওআরএস, ভাতের মাড় বা ডাবের পানি নিয়মিত দিন, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
  • সেদ্ধ কলা ও হালকা খাবার খাওয়ান, যা পেটের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • হালকা গরম কাপড়ে পেট সেঁক দিন, এতে পেট ব্যথা ও খিঁচুনি কমে।
  • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন, এতে শরীরের শক্তি ফিরে আসে এবং দ্রুত আরোগ্য ঘটে।
  • অপরীক্ষিত ঘরোয়া টোটকা বা হারবাল ওষুধ ব্যবহার করবেন না, এগুলো শিশুর অন্ত্রের সংক্রমণ আরও বাড়াতে পারে।

কোনো ঘরোয়া উপায় প্রয়োগের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি?

শিশুর আমাশয় সাধারণভাবে ঘরোয়া যত্নে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও, কিছু পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলে শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা বা সংক্রমণ বেড়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:

  • রক্ত বা শ্লেষ্মা মিশ্রিত পাতলা পায়খানা হলে
  • জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয় বা খুব বেশি বেড়ে যায়
  • শিশু বারবার পেট ব্যথা বা খিঁচুনি অনুভব করে
  • শিশু খেতে চায় না বা বারবার বমি করছে
  • চোখ ঢেবে যাওয়া, কান্নায় চোখের পানি না থাকা, ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া— অর্থাৎ পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে
  • শিশু অত্যন্ত দুর্বল, অচেতন বা অলস হয়ে পড়লে

শিশুর আমাশয় প্রতিরোধে কী করবেন?

আমাশয় প্রতিরোধ করা চিকিৎসার চেয়েও সহজ। শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ছোট পরিবর্তন আনলেই এই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। নিচে দেওয়া কিছু সহজ অভ্যাস শিশুকে আমাশয় থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে:

শিশুর আমাশয় প্রতিরোধে কী করবেন
  1. সবসময় হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর ও খাবার খাওয়ার আগে।
  2. ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করান, কারণ দূষিত পানি আমাশয়ের প্রধান কারণ।
  3. শিশুর খাবার ভালোভাবে রান্না ও ঢেকে রাখুন, যেন মাছি বা ধুলো না পড়ে।
  4. কাঁচা ফল বা সবজি ভালোভাবে ধুয়ে দিন, প্রয়োজনে ফুটানো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
  5. বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুকে নিয়মিত দুধ দিন, এটি তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  6. রাস্তার খাবার বা অপরিষ্কার খাবার খেতে দেবেন না, এতে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
  7. শিশুর খেলনা, জামাকাপড় ও ব্যবহার্য জিনিস পরিষ্কার রাখুন, বিশেষ করে বাথরুম ব্যবহারের পর।
  8. পরিবারের অন্য কেউ আমাশয়ে আক্রান্ত হলে আলাদা তোয়ালে ও গ্লাস ব্যবহার করুন, যেন সংক্রমণ না ছড়ায়।

আপনার শিশুর সুস্থতার জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

আপনার শিশুর আমাশয় যদি কয়েক দিনের মধ্যেও না কমে, বা আপনি যদি নিশ্চিত না হন কীভাবে যত্ন নিতে হবে। তাহলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে শিশুর অবস্থা দ্রুত উন্নতি হয় এবং জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। শিশুর আমাশয়, ডায়রিয়া, পেটের সংক্রমণ, হজম সমস্যাপুষ্টিহীনতা–সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন এবং যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করেন।

যোগাযোগ করুন

শিশুর আমাশয় হলে করণীয় বিষয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

হ্যাঁ, এই বয়সের শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তারা দ্রুত পানি ও পুষ্টি হারায়। তাই এই বয়সে আমাশয়ের ক্ষেত্রে বুকের দুধ বন্ধ করবেন না, ওরস ও নিরাপদ, হালকা খাদ্য খুব ধীরে ধীরে শুরু করবেন, এবং যেকোনো সমস্যা দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন।

আমাশয় হলে পায়খানা শুধু পাতলা বা জলের মতো হয় না, সেখানে রক্ত বা মিউকাস (শ্লেষ্মা) থাকতে পারে এবং পেট ব্যথা, জ্বর ও খিঁচুনিসহ উপসর্গ সাধারণ ডায়রিয়ার চেয়ে বেশি তীব্র হয়।

আপনি দেখবেন, পায়খানা রক্ত বা মিউকাসযুক্ত, বারবার পাতলা পায়খানা, শিশুর দুর্বলতা, চোখ ঢেবে যাওয়া, বমি হওয়া বা খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া। এছাড়া যদি ছোট-বড় মাপের শিশুর ক্ষেত্রে পেটে ক্রমাগত চাপ অনুভব হয়।

হ্যাঁ। ওরস পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে এবং জিঙ্ক diarrhoea/risk কমায়। WHO ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য গাইডলাইন অনুযায়ী, যে শিশুর আমাশয় হয়েছে, ওরস ও জিঙ্ক দেওয়া সহায়ক ও প্রয়োজনীয়।

না, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত পায়খানা ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা স্থানীয় দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন যা রোগকে আরও সুস্থ হতে বাধা দিতে পারে ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বাড়িয়ে দিতে পারে।

উপসর্গ যেমন রক্তযুক্ত পায়খানা, জ্বর, ঘন ঘন বমি, বা দুধ না খাওয়া যদি ১-২ দিনের মধ্যে কমে না যায় বা বাড়ে, তাহলে দেরি না করে শিশুর শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান। ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই যোগাযোগ করা জরুরি।

হাঁত ধোয়া, খাবার ও পানি সঠিকভাবে ফুটিয়ে দেওয়া, খাবার ঢেকে রাখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, বুকের দুধ খাওয়ানো অভ্যাস বজায় রাখা। এসবই মূলত প্রতিরোধে সাহায্য করে।

Other pages you may be interested in...

৫ মাস, ৯ মাস, ১ বছর ও ২ বছরের শিশুর জ্বরের সঠিক যত্ন, ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসা পরামর্শ জানুন!

শিশুর জন্ডিসের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা জানুন। ভাইরাসজনিত ও জন্মগত জন্ডিসের সঠিক চিকিৎসা নিন।

শিশুদের লিভার বায়োপসি পদ্ধতি, নিরাপত্তা ও খরচ জানতে ডাঃ সালাহউদ্দিন মাহমুদের পরামর্শ নিন।

Call Receptionist
Call for Appointment
Popular Diagnostic Centre Ltd. (Shyamoli)
CTA Phone Icon 09666-787806
For More Information
CTA Phone Icon 01339364083
Make An Appoinment
Arrow