শিশুদের হাম রোগের টিকা: সাপ্লিমেন্টারি ডোজ বা ইমারজেন্সি ডোজ দেয়া কি নিরপদ?
শিশুদের হাম (Measles) প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ একটি উপায়। সাধারণত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন মহামারির ঝুঁকি থাকলে বা সংক্রমণ বেশি হলে—সাপ্লিমেন্টারি ডোজ বা ইমারজেন্সি ডোজ দেওয়া যেতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত ডোজও নিরাপদ এবং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে বুস্টার ডোজ দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে শিশুর বয়স, পূর্বের টিকাদান অবস্থা ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সকল বাবা-মায়ের মধ্যেই উদ্বেগ কাজ করছে। তবে সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপ নিলে খুব সহজেই শিশুকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে থাকা অ্যান্টিবডি শিশুকে ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত হামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সুরক্ষা দেয়। ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি নরম ভাত, খিচুড়ি, মাছ ও সবজির মতো পুষ্টিকর খাবার শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ শিশু, যদি গত ৩০ দিনের মধ্যে হামের টিকা না নিয়ে থাকে, তাহলে সরকারি ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নেওয়া উচিত—সে আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক, এমনকি হাম থেকে সুস্থ হওয়ার ৩০ দিন পরও টিকা নেওয়া নিরাপদ। যদি শিশুর বর্তমানে হাম হয়, তাহলে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘরোয়া পরিচর্যায় যেমন পর্যাপ্ত তরল খাবার, ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য এবং বিশ্রামের মাধ্যমে শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে চোখ লাল হওয়া, কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতার মতো জটিল লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সংক্রমণ প্রতিরোধে অসুস্থ শিশুকে আলাদা রাখা, বড় শিশুদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, জ্বর বা অসুস্থতা থাকলে শিশুকে স্কুলে না পাঠানো উচিত, কারণ হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সচেতনতা, সঠিক যত্ন এবং সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমেই আমরা আমাদের সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে পারি এবং গড়ে তুলতে পারি— দিব টিকা গড়বো দেশ, হামমুক্ত বাংলাদেশ।