শিশুর নিউমোনিয়ার কারণ,
লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়
শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিত করা প্রতিটি অভিভাবকের সবচেয়ে
বড় দায়িত্ব। কিন্তু কিছু রোগ আছে, যেগুলো শুরুতে সাধারণ
মনে হলেও সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে মারাত্মক রূপ নিতে
পারে। নিউমোনিয়া তেমনই একটি রোগ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম
বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ
স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা বিশ্বজুড়ে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ
হিসেবে বিবেচিত।
অনেক সময় সর্দি-কাশি বা জ্বরকে অবহেলা করার ফলেই এই রোগ
জটিল আকার ধারণ করে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক লক্ষণ
শনাক্ত করা গেলে এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হলে নিউমোনিয়ার
ভয়াবহতা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব। এজন্য অভিভাবকদের
সচেতনতা ও রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত
জরুরি।
এই ব্লগে আমরা শিশুর নিউমোনিয়ার কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও
প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরব, যাতে
প্রতিটি অভিভাবক প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত
নিতে পারেন।
এই ব্লগে আমরা শিশুর নিউমোনিয়ার কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও
প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরব, যাতে
প্রতিটি অভিভাবক প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত
নিতে পারেন।
নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণজনিত একটি গুরুতর রোগ, যা
মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে।
এই রোগে ফুসফুসের ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম বায়ুথলি, যেগুলোকে
অ্যালভিওলাই বলা হয়, সেগুলো তরল বা পুঁজে পূর্ণ হয়ে
যায়। ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে বাতাস গ্রহণ ও ছাড়তে পারে
না।নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণজনিত একটি গুরুতর রোগ,
যা মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে
থাকে। এই রোগে ফুসফুসের ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম বায়ুথলি,
যেগুলোকে অ্যালভিওলাই বলা হয়, সেগুলো তরল বা পুঁজে পূর্ণ
হয়ে যায়। ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে বাতাস গ্রহণ ও ছাড়তে
পারে না।
এর প্রভাবে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টকর হয়ে ওঠে এবং শরীরে
পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে
শিশুদের ক্ষেত্রে ফুসফুস এখনও সম্পূর্ণভাবে পরিপক্ব না
হওয়ায় নিউমোনিয়ার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই রোগ শিশুর সামগ্রিক
স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে এবং জটিল
অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
শিশুর নিউমোনিয়ার প্রধান
কারণসমূহ
শিশুদের নিউমোনিয়া বিভিন্ন ধরনের জীবাণু সংক্রমণ ও
পরিবেশগত কারণের ফলে হয়ে থাকে। শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা
দুর্বল হলে এসব কারণ আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিউমোনিয়ার
প্রকৃত কারণ জানা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক
ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। নিচে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ
উল্লেখ করা হলো:
ব্যাকটেরিয়া: নিউমোনিয়ার সবচেয়ে
গুরুতর ধরন সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। হঠাৎ
জ্বর, দ্রুত শ্বাস ও শিশুর অবস্থা দ্রুত খারাপ
হওয়া এর লক্ষণ।
ভাইরাস: সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লু
থেকে ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া হতে পারে। এটি তুলনামূলক
কম মারাত্মক হলেও শিশু দুর্বল হলে ঝুঁকি বাড়ে।
ছত্রাক (ফাঙ্গাস): অত্যন্ত দুর্বল
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে বিরলভাবে
ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়া দেখা যায়।
শিশুর নিউমোনিয়ার লক্ষণ শুরুতে অনেক সময় সাধারণ
সর্দি-কাশি বা জ্বরের মতো মনে হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে
শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্টসহ কিছু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে,
যা অবহেলা করা বিপজ্জনক। তাই এসব লক্ষণ সম্পর্কে আগে থেকেই
জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ত্বকের এলার্জি (Skin
Allergy)
জ্বর (হালকা থেকে খুব বেশি)
দ্রুত বা কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাস
বুক দেবে যাওয়া (শ্বাস নেওয়ার সময়)
লাগাতার কাশি
খেতে না চাওয়া বা দুধ পান করতে অনীহা
শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়া
ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া (গুরুতর লক্ষণ)
শিশুর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা
শিশুর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন ও
তীব্রতার ওপর। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা গেলে অধিকাংশ
ক্ষেত্রেই শিশুকে সুস্থ করা সম্ভব। এজন্য লক্ষণ বুঝে দ্রুত
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
১. হালকা নিউমোনিয়া
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
তরল ও পুষ্টিকর খাবার
জ্বর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
২. গুরুতর নিউমোনিয়া
হাসপাতালে ভর্তি
অক্সিজেন থেরাপি
ইনজেকশন বা শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক
শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ
শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয়
নিউমোনিয়া শিশুর জন্য একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি হলেও
সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা, সঠিক পুষ্টি ও সময়মতো টিকা গ্রহণ
শিশুকে এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। নিচে শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো
তুলে ধরা হলো।
টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা: নির্ধারিত সময়ে সব
টিকা দিলে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে
কমে।
বুকের দুধ খাওয়ানো: মায়ের বুকের দুধ শিশুর
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে
সাহায্য করে।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা:
হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
শিশুর আশপাশ পরিষ্কার রাখা
ধোঁয়া ও দূষণ এড়ানো: শিশুকে ধূমপান ও রান্নার
ধোঁয়া থেকে দূরে রাখতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার: সুষম খাদ্য শিশুর শরীরকে
সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তিশালী করে।
শিশুর নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না
করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ
করে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিলে বা স্বাভাবিক
আচরণে পরিবর্তন এলে বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
যেমন:
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া
শ্বাস নেওয়ার সময় বুক দেবে যাওয়া
জ্বর দীর্ঘ সময় ধরে থাকা বা জ্বর খুব বেশি বেড়ে
যাওয়া
খেতে বা বুকের দুধ পান করতে অনীহা
শিশুর শরীর খুব নিস্তেজ বা অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে
পড়া
ঠোঁট, জিহ্বা বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া
খিঁচুনি হওয়া বা হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়া
শিশুর নিউমোনিয়া বিশেষজ্ঞ
ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ এর পরামর্শ নিন
শিশুর শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা নিউমোনিয়ার যেকোনো
লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও
উপযুক্ত চিকিৎসাই শিশুকে জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
শিশুর নিউমোনিয়া সম্পর্কিত
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নত্তোর
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া
সৃষ্টিকারী জীবাণু সর্দি-কাশির মাধ্যমে
একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়াতে পারে।
তাই আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা ও
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বিশেষ করে
নবজাতক ও অপুষ্ট শিশুদের নিউমোনিয়ায়
আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
হালকা নিউমোনিয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব। তবে
শ্বাসকষ্ট, বুক দেবে যাওয়া বা খাওয়া
বন্ধ হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।
না। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায়
অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়, কিন্তু
ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়ায় সাধারণত সহায়ক
চিকিৎসাই যথেষ্ট। চিকিৎসকই সঠিক সিদ্ধান্ত
নেন।
সম্পূর্ণভাবে না হলেও সময়মতো টিকা, বুকের
দুধ খাওয়ানো, পুষ্টিকর খাবার ও পরিচ্ছন্ন
জীবনযাপনের মাধ্যমে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি
অনেকাংশে কমানো যায়।
শিশুর নিউমোনিয়া
বিশেষজ্ঞ ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ এর পরামর্শ
নিন
শিশুর শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা নিউমোনিয়ার
যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ শিশু
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি