শিশুদের লিভার বায়োপসি: | কী, কেন, এবং কীভাবে করা হয়?
শিশুর লিভার সমস্যা অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। বারবার জন্ডিস, খেতে না চাওয়া, বা রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম বেড়ে গেলে ডাক্তার হয়তো বলবেন, লিভার বায়োপসি দরকার। অভিভাবকদের এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি একদম ছোট্ট ও নিরাপদ পরীক্ষা, যেখানে লিভার থেকে খুব সামান্য অংশ নিয়ে দেখা হয় ভেতরে কী চলছে।
এতে বোঝা যায় রোগের আসল কারণ, আর চিকিৎসা ঠিক কোন পথে যেতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুদের লিভার বায়োপসি হয় আল্ট্রাসাউন্ড গাইডে, ব্যথা বা ভয় ছাড়াই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHo) বলছে— সময়মতো লিভার রোগ ধরা পড়লে শিশুর ভবিষ্যৎ অনেক বেশি সুরক্ষিত হয়।
তাই অধ্যাপক ডাঃ সালাহউদ্দিন মাহমুদের মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। আপনার শিশুর লিভার সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে, আজই শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
লিভার বায়োপসি মানে হলো শিশুর লিভার থেকে একদম ছোট্ট একটি টিস্যু বা কোষের নমুনা নেওয়া। তারপর সেই নমুনা মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে দেখা হয় লিভারে প্রদাহ, ফ্যাট, সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কিনা।
এটি এমন এক পরীক্ষা যা চিকিৎসককে “রোগের ভেতরের সত্যটা” জানতে সাহায্য করে, যাতে চিকিৎসা আরও নির্ভুল হয়। সহজভাবে বললে, লিভার বায়োপসি হলো লিভারের “ভেতরের অবস্থা জানার সবচেয়ে নির্ভুল উপায়।”
কেন শিশুদের লিভার বায়োপসি প্রয়োজন হতে পারে?
বাংলাদেশে অনেক শিশুই লিভার বা পেটজনিত সমস্যায় ভোগে। অনেক সময় শুধু রক্ত পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ডে শিশুর লিভারের সমস্যা ঠিকভাবে বোঝা যায় না। তখন ডাক্তার বলেন লিভার বায়োপসি দরকার, যাতে ভেতরের অবস্থা পরিষ্কারভাবে জানা যায়। এতে চিকিৎসা আরও নির্ভুলভাবে দেওয়া যায়।
শিশুর ক্ষেত্রে লিভার বায়োপসি দরকার হতে পারে যখন:
জন্ডিস ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে।
রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম সবসময় বেশি আসলে।
আল্ট্রাসাউন্ডে লিভার বড় বা শক্ত দেখা গেলে।
জেনেটিক বা অটোইমিউন লিভার রোগের সন্দেহ থাকলে।
ওষুধ, সংক্রমণ বা পুষ্টির কারণে লিভার ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
“বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে— লিভার ডিজিজ শিশুদের মধ্যে এখন একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা, বিশেষ করে ভাইরাল ও পুষ্টিজনিত কারণে। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় শিশুদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে পারে।”
শিশুদের লিভার বায়োপসির প্রধান ধরন
লিভার বায়োপসি একটাই নয়, শিশুর অবস্থা ও নিরাপত্তা দেখে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন কোন পদ্ধতিতে করা হবে। নিচে সবচেয়ে প্রচলিত ধরনগুলো সহজভাবে দেওয়া হলো —
পারকিউটেনিয়াস লিভার বায়োপসি (Percutaneous Liver Biopsy): এটি সবচেয়ে সাধারণ ও দ্রুত পদ্ধতি। ত্বকের উপর ছোট জায়গা জীবাণুমুক্ত করে সূক্ষ্ম সুচের মাধ্যমে লিভারের টিস্যু নেওয়া হয়। বর্তমানে এটি আল্ট্রাসাউন্ড গাইডে করা হয়, তাই ঝুঁকি খুব কম।
ট্রান্সজুগুলার লিভার বায়োপসি (Transjugular Liver Biopsy): যখন রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থাকে, তখন ঘাড়ের জুগুলার ভেইনের মাধ্যমে ভিতর থেকে নমুনা নেওয়া হয়।
ল্যাপারোস্কোপিক লিভার বায়োপসি (Laparoscopic Liver Biopsy): কখনও অন্য সার্জারি বা ক্যামেরা-সহ পরীক্ষা একসাথে দরকার হলে এই পদ্ধতি করা হয়। এতে সরাসরি লিভারের অবস্থা দেখা যায় এবং প্রয়োজনে একাধিক জায়গা থেকে নমুনা নেওয়া যায়।
শিশুর লিভার বায়োপসি কিভাবে করা হয়?
শিশুর লিভার বায়োপসি একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এটি সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড (Ultrasound-Guided) পদ্ধতিতে করা হয়, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ ও ব্যথাহীন হয়।
১. প্রস্তুতি
শিশুকে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকতে বলা হয় (সাধারণত ৬–৮ ঘণ্টা)।
কিছু রক্ত পরীক্ষা করা হয় রক্তপাতের ঝুঁকি আছে কিনা জানতে।
বাবা-মাকে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে লিখিত সম্মতি নেওয়া হয়।
২. বায়োপসির সময়
শিশুকে সেডেশন বা হালকা ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয় যাতে ভয় বা ব্যথা না লাগে।
আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনে দেখে লিভারের জায়গা নির্ধারণ করা হয়।
ত্বক জীবাণুমুক্ত করে সুচ ঢুকিয়ে খুব ছোট নমুনা নেওয়া হয় (সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট)।
৩. বায়োপসির পর যত্ন
শিশুকে কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
ব্যথা বা রক্তক্ষরণ হচ্ছে কিনা তা দেখা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই দিনে বাসায় যাওয়া যায়।
একদিন বিশ্রাম দেওয়া ভালো, খেলাধুলা বা দৌড়াদৌড়ি না করা উচিত।
বাংলাদেশে লিভার বায়োপসি কতটা নিরাপদ?
বাংলাদেশে এখন শিশুদের লিভার বায়োপসি আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড-গাইডেড পদ্ধতিতে করা হয়, তাই এটি সাধারণত নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। WHO ও ESPGHAN (European Society for Paediatric Gastroenterology) অনুযায়ী, প্রশিক্ষিত হাতে এই পদ্ধতির জটিলতা ১%-এরও কম।
অভিজ্ঞ শিশু হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ, সঠিক প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ থাকলে জটিলতার আশঙ্কা খুবই কম। নিরাপত্তা বজায় রাখতে যা গুরুত্বপূর্ণ:
অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করা।
রক্ত পরীক্ষা ও কোয়াগুলেশন প্রোফাইল আগে করা।
আল্ট্রাসাউন্ড গাইডে বায়োপসি করা, যাতে সুচ সঠিক স্থানে যায়।
পরীক্ষার পর শিশুকে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা।
ব্যথা বা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানানো।
বায়োপসির রিপোর্টে কি জানা যায়?
লিভার বায়োপসির রিপোর্টে লিভারের ভেতরের আসল অবস্থা জানা যায়, যা সাধারণ পরীক্ষা দিয়ে বোঝা যায় না। এই রিপোর্টের ফলাফলে ডাক্তার বুঝতে পারেন লিভার কতটা সুস্থ, কোথায় সমস্যা, এবং কী চিকিৎসা দরকার।
লিভার বায়োপসির রিপোর্টে দেখা যায়—
লিভারে প্রদাহ (inflammation) আছে কিনা।
ফ্যাট বা চর্বি জমেছে কিনা (Fatty Liver)।
লিভার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।
ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস (আঁশ জমে শক্ত হওয়া) আছে কিনা।
ভাইরাস, কপার বা আয়রন জমে থাকার চিহ্ন আছে কিনা।
অটোইমিউন বা জেনেটিক রোগের লক্ষণ পাওয়া গেছে কি না।
এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসক নির্ধারণ করেন, কী চিকিৎসা দরকার এবং ভবিষ্যতে ফলোআপ কেমন হবে।
অভিভাবকদের জন্য সহজ নির্দেশনা ও চেকলিস্ট
শিশুর লিভার বায়োপসি নিয়ে অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তায় থাকেন। কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও যত্ন নিলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয় খুবই সহজ ও নিরাপদ। নিচে কয়েকটি সহজ নির্দেশনা দেওয়া হলো, যা মনে রাখলে শিশুর জন্য সবকিছু আরও আরামদায়ক হয়।
১. বায়োপসির আগে:
বায়োপসির কয়েক ঘন্টা আগে থেকে শিশুকে কোনো কিছু খেতে বা পান করতে না দেওয়া।
সব ওষুধের নাম ডাক্তারকে জানান, বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ।
শিশুকে বোঝান এটি ছোট একটি পরীক্ষা, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
হাসপাতালের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন।
২. বায়োপসির সময়:
শিশুর পাশে শান্তভাবে থাকুন, এতে সে নিশ্চিন্ত থাকে।
পরীক্ষা চলাকালীন অযথা নড়াচড়া না করতে বলুন।
৩. বায়োপসির পর:
শিশুকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা বিশ্রামে রাখুন।
ব্যথা বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।
ভারী খেলা বা দৌড়ানো কয়েকদিন বন্ধ রাখুন।
রিপোর্ট পাওয়ার পর চিকিৎসকের সঙ্গে ফলো-আপ করুন।
বাংলাদেশে লিভার বায়োপসি টেস্ট খরচ কত?
বাংলাদেশে লিভার বায়োপসির খরচ সব জায়গায় এক নয়। এটা নির্ভর করে কোন হাসপাতালে করা হচ্ছে, কোন পদ্ধতিতে হচ্ছে, আর শিশুকে সেডেশন দিতে হবে কি না তার ওপর। সাধারণত;
সরকারি হাসপাতালে: প্রায় ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।
বেসরকারি বা বিশেষায়িত হাসপাতালে: ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা।
আধুনিক বা আন্তর্জাতিক মানের সেন্টারে: ৩০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিঃদ্রঃ সাধারণত খরচের মধ্যে পরীক্ষা, যন্ত্রপাতি, ও সেডেশনের ফি ধরা হয়। তাই বায়োপসি করার আগে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের সঙ্গে মোট খরচ জেনে নেওয়াই ভালো।
শিশুদের লিভার বায়োপসিতে ডাঃ সালাহউদ্দিন মাহমুদের দক্ষতা ও ভূমিকা
অধ্যাপক ডাঃ সালাহউদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশের অন্যতম অভিজ্ঞ শিশু হেপাটোলজি ও গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞ। তিনি দীর্ঘ ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৫,০০,০০০+ শিশুদের জন্ডিস, লিভার ডিজিজ ও পেটের জটিল রোগের চিকিৎসা দিয়েছেন।
তার তত্ত্বাবধানে লিভার বায়োপসি হয় আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড-গাইডেড পদ্ধতিতে, যেখানে শিশুর নিরাপত্তা, আরাম এবং নির্ভুল রিপোর্ট—সবকিছুই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। শিশুদের লিভার সমস্যায় তিনি:
দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে এখনই এই নাম্বারে ০৯৬৬৬-৭৮৭৮০৬ কল করুন। অধ্যাপক ডাঃ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশের শীর্ষ শিশু হেপাটোলজি ও গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞ, শিশুদের লিভার বায়োপসি ও লিভার সমস্যায় অভিজ্ঞ এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
তিনি প্রতিটি পরীক্ষা ও চিকিৎসায় যত্নের সঙ্গে, নিরাপদ পরিবেশ, এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। আপনার শিশুর সুস্থতা শুরু হোক সঠিক নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা দিয়ে।
শিশুদের লিভার বায়োপসি সম্পর্কিত প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড-গাইডেড টেকনিক, সেডেশন/অ্যানেস্থেশিয়া, এবং রক্তক্ষরণ ঝুঁকি মূল্যায়নের কারণে এটি সাধারণত নিরাপদ ও জটিলতা খুবই কম। যদি ক্লিনিক্যালি উপযুক্ত হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই দিনে বাসায় ফেরা যায়।
অ্যানেস্থেশিয়ার ধরন ও শিশুর বয়স অনুযায়ী হাসপাতালে নির্ধারিত ফাস্টিং সময় মানতে হয়। এটি অ্যাসপিরেশন ঝুঁকি কমায়। নির্দিষ্ট সময় হাসপাতাল বা চিকিৎসক শিশুর বয়স ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী জানিয়ে দেন। তাই সবসময় ডাক্তারের নির্দেশ মতোই উপবাসের সময় মেনে চলা উচিত।
যখন রক্তপাতের ঝুঁকি বেশি বা ক্লটিং সমস্যা রয়েছে, তখন ঘাড়ের ভেইন দিয়ে ভেতর থেকে নমুনা নেওয়া নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
প্রস্তুতি মিলিয়ে সময় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু টিস্যু নেওয়ার অংশটি সাধারণত খুব সংক্ষিপ্ত কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। এরপর পর্যবেক্ষণ থাকে।
ল্যাবের কাজের ধরন ও টেস্টের ওপর নির্ভর করে কয়েক কার্যদিবস লাগতে পারে। হাসপাতালের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম অনুযায়ী জানানো হয়।
ডাক্তার অনুমোদিত ব্যথানাশক দিন এবং নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ করুন। তীব্র ব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
না। অনেক সময় রক্তপরীক্ষা, ইমেজিং বা নন-ইনভেসিভ টেস্টে সিদ্ধান্ত হয়। তবে তথ্য স্পষ্ট না হলে বা চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য টিস্যু ডায়াগনোসিস জরুরি হলে বায়োপসি করা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভর্তি থাকা লাগে না, কারণ সাধারণত শিশুদের লিভার বায়োপসি একটি ছোট ও নিরাপদ পরীক্ষা। তবে যদি শিশুর বয়স খুব কম হয়, রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে বা ডাক্তার প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে এক রাত পর্যবেক্ষণে রাখা হতে পারে।
Expert child abdominal migraine treatment in Bangladesh by Dr. Salahuddin Mahmud. Safe care for kids with recurrent abdominal pain. Call for an appointment!